সংবিধান সংস্কারের আলোচনা প্রশ্নে উত্তপ্ত সংসদ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৯-০৩-২০২৬ ০৮:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৩-২০২৬ ০৮:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহবান নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নির্ধারিত কার্যসূচি স্থগিত করে আলোচনা চেয়ে মুলতবি প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে নোটিশ উত্থাপন করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি আজকের অধিবেশনে ৭১ বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন।
একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেছি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী আমি যথাযথভাবে নোটিশ জমা দিয়েছি। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর আলোকে আমি এ নোটিশটি উত্থাপন করছি। আপনি আলোচনার জন্য এটি মঞ্জুর করবেন বলে বিশ্বাস করি।
তার এ বক্তব্যের পরপরই সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরই যেকোনো বিষয় উত্থাপন করা হয়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে বিধি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।
আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। মন্ত্রী পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে চাইলে স্পিকার তাকে বারবার মূল বক্তব্যে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। স্পিকার তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় মন্ত্রী, আপনি দয়া করে আপনার কথা শেষ করুন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আপনি অনুমতি না দিলে, দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার।
পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব নিয়ে সরকারেরও বলার আছে। তবে সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির পরেই এটি আলোচনা হওয়া উচিত, যাতে অন্য সদস্যদের অধিকার রক্ষিত হয়।
এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও তার অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর দিচ্ছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারের কথা মতোই আমি প্রশ্নোত্তর পর্বের পর দাঁড়িয়েছি। এটি আমার অধিকার এবং দায়িত্ব।
দুই পক্ষের বাগ্বিতণ্ডার পর স্পিকার সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যদিবসে বা নির্ধারিত সময়ে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স